কিভাবে ব্লগ, আর্টিকেল বা পোস্ট লিখবেন?

 আমাদের জীবন টা একটি কাহিনী বা উপন্যাস। আমাদের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা আমরা হয়তো ভিডিও ক্যাপচার করি কিংবা খাতায় লিখি।আবার অনেক সময় Educational কিছু আমরা লিখে রাখি যাতে ভুলে না যাই, নয়তবা কাউকে শিখানোর জন্য খাতায় উঠাই।


প্রযুক্তির এই জোয়ারে আমাদের হাতে আছে ডিভাইস, তাই এখন আর খাতা কলমে লিখতে হয়না। আমরা যেখানে মনে চায় সেখানেই বাসে বা সোয়ে টাইপ করতে পারছি। 


কাহিনী, ঘটনা,শিক্ষনীয়, তথ্য বা আমাদের যা মনে চায়, তা টাইপ বা লেখাকে বলে ব্লগ বা আর্টিকেল। আজকের এই পোস্ট থেকে আমরা জানতে পারবো কিভাবে একটি পরিপূর্ণ আর্টিকেল লিখতে হয়।

ব্লগ বা পোস্ট লিখতে হলে কিছু বিষয় আপনাকে জানতে হবে।


👉যে বিষয়ে লিখবেন সে বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।বিভিন্ন সোসাল মিডিয়া ,নিউজ পেপার বা বই পড়ে আপনি জ্ঞান অর্জন করতে পারেন।

 👉পোস্টে ভুমিকা,বডি এবং  উপসংহার ইমেজ স্লাইড দিয়ে সাজাতে হবে।

👉মনে রাখবেন আপনার পোস্ট যেনো ছোট হয়ে না যায়। কম পক্ষে ৫০০ শব্দ ব্যবহার করবেন।

👉 পোস্টর মধ্যে ইন্টারেস্টিং কথাবার্তা রাখবেন যাতে করে ভিজিটরা মজা পায়।

 👉একাধারে কিছু লেখার চেষ্টা করবেন না। প্যারা দিয়ে,গ্যাপ দিয়ে, লেখার মাঝে, যেখানে ইমেজ দেওয়া যায় সেখানে ইমেজ দিয়ে, ভিজিটরকে আরও আকৃষ্ট করে তুলুন।

 👉আপনার লেখার সাথে মিলে এ রকম ইমেজ ব্যবহার করবেন।

 


Upwork ও Freelancer  এর মত নাম করা ফ্রিল্যান্স মার্কেট প্লেস গুলোতে রয়েছে হাজার হাজার প্রজেক্ট। শুধু মাত্র ফ্রিল্যান্সারে গত ৩০ দিনে লেখক চেয়ে চাকরির পোস্ট রয়েছে ৯০,২৭৭ টি। এমনকি রাইটিংকে নিয়ে গড়ে উঠছে মার্কেটপ্লেসের সংখ্যাও কম নয়।বাংলাদেশে এমন অনেক ফ্রিল্যান্সার লেখক আছেন যারা ঘন্টায় ১০ থেকে ৩০ ডলার আয় করে থাকেন।

আয় করার সুযোগ আছে নিজের ব্লগিং সাইটে ইনফরমেটিভ ব্লগ এবং অ্যাফিলিয়েট সাইটে প্রডাক্ট রিভিউ লিখে। এছাড়া দেশি-বিদেশি ইন্টারনেট মার্কেটিং অথবা কনটেন্ট মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানেও ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা বেতনে চাকরিও করছেন অনেকে।

অনেকে ফ্রিল্যান্স রাইটিং কিংবা ব্লগিং পেশায় আসতে চান, কিন্তু সঠিক গাইড লাইনের অভাবে ভালো করতে পারছেন না।

যেসব বিষয়ে আর্টিকেল রাইটিং শুরু করবেন।

👉SEO Content Writing

 👉Web Content Writing

👉Affiliate Content Writing 

👉Blog Writing

👉Technical Content Writing

👉eBook Writing

👉Product Review Writing

👉Product Description Writing

👉Academic Content Writing

👉Proofreading and edWriting

👉Short Article Writing

 👉Rewriting

👉Press Release Writing

👉CV/Resume

👉Translation

👉Transcription

👉Soft Copy Writing From Any Book or Hard Copy

👉Company News Letter Writing

👉Company E-mail Writing

👉Company Ads or Brochure Writing

👉 Script Writing

👉News Content Writing

👉Summarization Writing

👉Power Point Presentation Writing


অবশ্যই ভাল মানের কন্টেন্টের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। লেখালেখি করে ২০-৩০ হাজার টাকা আয় করা খুব কঠিন কিছু না, শুধু চেষ্টা করতে হবে। বাংলাদেশের অনেকেই ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা আয় করছে। অনেকেই ,কোথায় কিভাবে কি করতে হবে সেটা ভাল ভাবেই জানে এবং সেভাবে আয়ও করছে। আর্টিকেল রাইটিং শুরু করবেন ??

প্রাথমিক ভাবে যা করবেন

১। প্রথমে নিজে নিজেই বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত লিখে যান। এতে আপনার লেখালেখির দক্ষতা ও আত্নবিশ্বাস বাড়বে। শুরুতেই কি নিয়ে লিখবেন ভবছেন??এমন বিষয় বাছাই করুন যা আপনি সবচেয়ে ভালো জানেন। আপনার মনে যা লেখার ফিলিং কাজ করে সেই বিষয়কে গুরুত্ব দিন। পাঠক কোন কোন বিষয়ে পড়তে বেশি আগ্রহী, সেসব নিয়েও লিখতে পারেন।

মনে রাখতে হবে আর্টিকেল রাইটিং এবং ক্রিয়েশন দুইটা ভিন্ন ব্যপার। ক্রিয়েশনের জন্য চাই স্পেসিফিক বিষয়ে প্রচুর জানাশুনা, এক্সপেরিমেন্ট এবং অনেক দিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, যেখানে আপনার নিজস্ব মতামত প্রতিষ্ঠা করতে হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রিসার্স পেজ, স্টোরি শেয়ারিং ও কেসস্টাডি। কিন্তু আর্টিকেল রাইটিংয়ে বিভিন্ন জানাশুনাকে একুমুলেট করে ভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা তুলনা মূলক সহজ। শুরুতে আপনি হয়তো কোন বিষয়েই অভিজ্ঞতা উজার করে লিখতে পারবেন না। হতাশ হবেন না লিখে যান নিয়মিত।



২। মূলত ৭ ধরণের লিখার স্ট্রাকচার হতে পারে। আর এই জন্যই প্রথমেই আইডেন্টিফাই করতে হবে কোণ বিষয়ের জন্য কোন ধরনের স্ট্রাকচারে লিখতে হবে।মনে রাখবেন প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিষয় বস্তু ও এপ্রোচ অনুযায়ী লেখার মান, কোয়ালিটি এবং স্ট্যাইল ভিন্ন ভিন্ন হয়। এছাড়াও ব্লগ আর্টিকেল, প্রডাক্ট রিভিউ, সেলস পেজ, রিসার্স পেজ, স্টোরি শেয়ারিং, ক্যাস স্টাডি'র জন্য লেখা কেমন হয় বা হতে হবে সেই বিষয়ে প্রচুর পড়াশুনা করতে হবে। গুগলে সার্চ করে লেখা গুলো ফলো করুন।

৩। লেখালেখিতে নিজস্ব বাচন ও প্রকাশ ভঙ্গি তৈরি করুন, যা আপনাকে অন্যদের চেয়ে ভিন্ন এবং সহজেই বিশেষ করে তুলবে। বিখ্যাত আমেরিক্যান লেখক "Sandra Cisneros” এর এই উক্তিটি "Write about what make you different” মনে রাখবেন সব সময়।

৪। লেখার সময় গ্রামারের প্রতি এবং শব্দ ও বাক্য চয়নে বিশেষ নজর দিন।


৫। লেখালেখিতে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে ড্রাফটিং এবং রিভিশন। আপনাকে অবশ্যই লেখার শেষে লেখাটির রুফরিড করতে হবে।


৬। লেখালেখি কারার জন্য আপনাকে প্রচুর পড়তে হবে, বিভিন্ন বিষয়ে জানতে হবে। জানাশুনা ছাড়া লেখালেখি অসম্ভবই বটে। ভালো মানের লেখকদের বই এবং জনপ্রিয় ব্লগারদের বই নিয়মিত পড়ন। তাদের লেখনী ফলো করতে করতে এক সময় আপনার নিজস্ব স্টাইল তৈরি হবে। যা আপনাকে সবার মাঝে ইউনিক করে তুলবে।  

আমি যেই ৬ টি ব্লগ/সাইট নিয়মিত ফলো করি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি...

http://www.copyblogger.com

 http://www.contentiscurrency.com

 http://www.menwithpens.com

 http://www.fuelyourwriting.com

 http://www.writetodone.com

 http://www.dailywritingtips.

তাহলে ?

লেখালিখি প্রফেশনালি শুরু করতে চান ?

এবার মন দিয়ে দেখুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

১/ কি লিখবেন?

লেখার আগে জানা চাই কেন লিখছেন, কাদের টার্গেট করে লিখছেন এবং তারা কি চায়। লেখার পাঠক কে সেটা নির্ণয় করুন। মনে রাখতে হবে লেখা যেন যুক্তিযুক্ত হয়। ওয়েবসাইট এবং বিষয় বস্তু অনুযায়ী ঠিক করে নিতে হয় লাইন অফ অ্যাকশন। আর প্রথমেই নিজের মনকে জিজ্ঞেস করুন আপনি এই বিষয়ের পাঠক হলে কি কি তথ্য পেতে চাইতেন এই লিখা থেকে। এক্ষেত্রে আমার পার্সোনাল মতামত হচ্ছে প্রথমে বিষয় ভিত্তিক WH question ডেভেলপ করা। কি, বুঝলেন না তো? ধরুন আমাদের বিষয়, ইনস্যুরেন্স। তাহলে আমরা WH question গুলো ডেভেলপ করতে পারি।

ইনস্যুরেন্স কি?

কেন প্রয়োজন?

করার আগে কি কি বিষয় মাথায় রাখতে হবে?

 কারা প্রভাইডার আছে?

 বেস্ট প্রভাইডার কে?

 কি সুবিধা দিবে?

 কেমন প্রিমিয়াম দিতে হবে?

কারণ পাঠকের এই প্রশ্ন গুলো ই অজানা, ঐ বিষয় থেকে তথ্য গুলো সে জানতে চাচ্ছে।

২/ কিভাবে লিখবেন

প্রথমেই লিখাটির টাইটেল লিখুন। আমি টাইটেল লিখার সময় কমপক্ষে ৪/৫ ভেরিয়েশন লিখি , তারপর সবচেয়ে আকর্ষণীয়টাই বাছাই করি। টাইটেল আকর্ষণীয় হলে ইউজারের এঙ্গেজমেন্ট বাড়ে , টাইটেল দেখেই লেখাটি পড়তে আগ্রহি হয়ে যায়। যেমন ঃ

চুল পরার ৫ টি কারন। যে ৫ টি ব্যাপার জানা না থাকলে আপনার চুল পরে যেতে পারে।যে সব কারণে চুল পরে যায়।


তলনামুলক ভাবে মানুস এই টাইটেলটা দেখলেই বেশি আগ্রহি হবে।মনে আছে ত , যে বেস্ট আইডিয়া তখনই পাওয়া যায় যখন অনেক আইডিয়া থাকে আপনার কাছে। সুতরাং টাইটেল ভেরিয়েশন আনা জানতে হবে।

এবার আপনাকে লিখতে হবে, লেখার আগে যা লিখতে চান , সেটার মূল পয়েন্ট গুলো ( অর্থাৎ  প্রশ্ন গুলো) লিখে নিন। প্রশ্ন গুলোর বিষয় পরিপূর্ণ জানাশুনা কিংবা অভিজ্ঞতা থাকলে ভাল, অন্যথায় নির্দিষ্ঠ প্রশ্ন নিয়ে সার্চ ইঞ্জিনে  সার্চ করে বিভিন্ন ব্লগ পড়ে ( প্রতিটা প্রশ্নের জন্য মিনিমাম ৫ টি লেখা পরুন) কিংবা ফরামে অংশ গ্রহনের মাধ্যমে জানাশোনা ভাড়াতে হবে। বলতে পারেন রীতিমত গবেষণা করতে হবে। যে বিষয়ে লেখবেন সে বিষয়ে কোন ধারনা না থাকলে কখনই ভাল লিখতে পারবেন না। তাই যে বিষয়ে লিখবেন সে বিষয়ে বিভিন্ন ফরামে এবং ব্লগ ভিজিট করুন এবং পড়ুন , এতে আপনার ধারনা ক্লিয়ার হবে।


গবেষণার কাজ শেষ হলে, এবার লেখাটিকে তিনটি ধাপে সাজান। ভুমিকা, পোস্ট বডি এবং উপসংহার। পাঠক পুরো আর্টিকেলটিতে কি পেতে যাচ্ছে সেটার স্থান পাবে ভুমিকায়। তারপর লেখার মূল অংশ অর্থাৎ পোস্ট বডি। এখানেই আমরা যেই WH question গুলো ডেভেলপ করেছি। সেগুলো পয়েন্ট আকারে সাজিয়ে উত্তর লিখবো। আরেকটা কথা ৭ টা স্ট্রাকচারের কথা বলছিলাম, এখানেই স্প্রিমেনট করতে হবে।

নিজস্র সৃজনশীলতায় তথ্যকে সম্প্রসারন করে লিখতে হবে এবং পাঠকের নতুন নতুন স্বাদ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। রাইটার হিসাবে আপনাকে মনে রাখতে হবে, যারা আপনার লেখা পড়বে , তারা খুব চুজি , সুতরাং তিনি চাইবেন কম সময়ে প্রয়োজনীয় জিনিস পড়তে।  তাই সংগৃহীত তথ্যকে সংবেদনশীল ভাবে সাজিয়ে প্যারা আকারে লিখতে হবে।

আগেই বলেছি , রাইটার হতে গেলে আপনাকে অবশ্যই ইংরেজিতে ভালো হতে হবে। ছোট , মাজারি এবং লম্বা বাক্য লিখতে ব্রিটিস বা আমেরিকান শব্দ ব্যাবহারেও হতে হবে সতর্ক , মিশ্রণ করা চলবে না। গ্রামার সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে তার সাথে শুদ্ধ  বানান। এর কিছু সাইট দিয়ে দিলাম।

http://paperrater.com

http://spellchecker.net

http://spellcheckplus.com

http://www.gramarly.com

http://www.whitesmoke.com

উপসংহারে আমরা পুরো বিষয়ের সমাদি উল্লেখ্য করব। উদ্ভব করবো উপরে লেখা সম্পকে। আপনার লেখার কাজ শেষ হলে , এটিকে চেক করুন। ভুল গুলকে খুজে বেরকরে সংসোধন করুন, অবাঞ্চিত বাক্য কেটে দিন।

তাছাড়াও আর্টিকেল রাইটিং এর সময় রাইটারকে সার্চ ইঞ্জিন গুলোর অনপেজ রিলেটেট বেশ কিছু ফ্যাক্টর ফলো করতে হয়, যা সার্চ ইঞ্জিনে আর্টিকেল গুলকে দ্রুত বের করাতে সহায়তা করে। তাই রাইটারকে আর্টিকেল লেখার সময় গুরুত্ত্বের সাথে নিচের এস ইও চেক  লিস্ট গুলো ফলো করতে হবে।

টাইটেল টার্গেড কিওয়ার্ডের ব্যাবহার। 

কিওয়ার্ড ডেনসিটি ফলো করা। 

কিওয়ার্ড স্টাফিং না করা।

রিলেটেড রিসোর্স লিংকিং। 

ভালো মানের আর্টিকেল লিখতে হলে, একজন আর্টিকেল রাইটারের অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিৎ । বিষয় গুলি মনে রাখলে এবং সে অনুযায়ী কাজ করলে অবশ্যই আর্টিকেল রাইটার হিসাবে সফলতা পাওয়া সম্ভব।



এই ৯ টি চেক লিস্ট অবশ্যই ফলো করবেন।

ওয়েব থেকে লেখা কপি করছেন কি?

আপনি লিখার পূর্বে ভালো করে রিসার্চ করছেন কি?

আর্টিকেলটি কি ইউজারের চাহিদা মেটাবে?

আপনার লিখার তথ্য কি আপডেট ?

আর্টিকেলটি কি গ্রামারটিকেল ইরর আছে?

আপনার লেখাটি কি ওয়েল ইডিটেড? 

আর্টিকেল কি স্কেনএবল?

আপনার আর্টিকেলটি কি সার্চ ইঞ্জিল বান্দব?

লিখাটি কি ইউজার স্বইচ্ছায় শেয়ার করবে?

কখনও এমনটি ভাববেন না যে আপনি কপি পেস্ট করে আর্টিকেল লিখবেন। বাজারে অনেক রিরাইট করা যায় এমন টুলস রয়েছে, এগুলো ব্যাবহারের কথা মাথা থেকে ঝেরে ফেলুন, কেননা এরা ৪০% ক্ষেত্রেই হিউম্যান রিডএবল লেখা দিতে ব্যর্থ।

উপরে দেখানো সকল টিপস্ অ্যান্ড ট্রিকস্ যদি ফলো করেন আমি ১০০% বলতে পাড়ি , আপনি সঠিক ভাবে আর্টিকেল লিখতে পারবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

ইদের চাঁদ কবে দেখা যাবে তা জানালেন আবহাওয়া অফিস।

Popular Posts